রৌমারীতে পেট্রোল বিক্রিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ, সাংবাদিককে হুমকি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১৯ দিন পর ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল বিক্রয়ে পুলিশের উপস্থিততে জেরিকেনে পেট্রোল বিক্রি, সাংবাদিককে হুমকি, জামায়াত নেতার সঙ্গে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বাগবিতণ্ডা, এক ব্যক্তি একাধিকবার পেট্রোল নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরের দিকে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে এ চিত্র দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পেট্রোল বিক্রয়ের চিত্র কিছুটা শিথিল দেখা গেছে।
জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে রৌমারী মেসার্স ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে পুলিশের সামনে কালো বাজারে জেরিকেনে পেট্রোল বিক্রয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ সময় ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের পরিচালক আবুল হাশেম মাস্টারকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওইদিন দুপুরে নিয়ম ভঙ্গ করে পেট্রোল নিতে আসলে জামায়াতের আবু সাঈদ ইউনিটের সভাপতি মাহবুব আলমের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের বাগবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কিলঘুষির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দু’পক্ষের আলোচনার এক পর্যায়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের ছেলে মোন্তাছির মৃদুল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাদের নামে ভিডিও ভাইরাল করেছে।
তারা সাংবাদিকের কাছে যদি অ্যাভিড্যান্স থাকে তা দিয়ে এখান থেকে যাবে বলে হুমকি দেন’। এ সময় ঘটনা স্থলে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা রাফিউর রহমান ও রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক শাহজামাল জানান, সে (জামায়াত নেতা মাহবুব) তেল নিবেন লাইন ছাড়া, জামাতের তেল দিবেন কীভাবে? তখন আমি বলি, কাকার সঙ্গে কথা বলেন। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেরে আসেন ও আক্রোশমূলক কথা বলেন।
সংসদ সদস্যের ছেলে মোন্তাছির মৃদুল বলেন, তারা নামের এক সাংবাদিক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও প্রকাশ করেছে, এর অ্যাভিডেন্স দিয়ে এখান (ফিলিং স্টেশন) থেকে বেড়িয়ে যাবে। তার আগে এখান থেকে যেতে পারবে না। তবে আমি সাংবাদিককে হুমকি দেইনি।
রৌমারী জামায়াতের আবু সাঈদ ইউনিটের সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, তেল বরাদ্দের বিভিন্ন কোটা রয়েছে। এর মধ্যে এমপিরও (সাংসদ) কোটা আছে। আমি পাম্পের লোকজনদের বলেছি এমপির তেল দেবেন কীভাবে। তিনি লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না, কারণ তিনি থাকেন ঢাকায়।
আমাদের ফুয়েল কার্ড আছে। পরে আমাদের লোকজন লাইনে দাঁড়ালে পুলিশের সামনে অন্য লোকজনদের জেরিকেনে তেল দিতে দেখা যায়। সবাই জেরিকেনে তেল পেলে এমপি মহোদয় কেন পাবে না।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক শাহজামালসহ বাগবিতণ্ডার বিষয়ে মাহবুব বলেন, হাসপাতাল মালিক সমিতির যে সদস্যরা জেরিকেন নিয়ে তেল নিতে গেছে, তখন তারা বলেন (পাম্পের লোকজন) জেরিকেনে তেল দিতে পারবেন না। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহেবকে বলেন উনারতো ট্যাগ অফিসার থাকেন। পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে জেরিকেনে পেট্রোল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনটা নিয়ম আর কোনটা অনিয়ম তা ইউএনও সাহেবকে বলেন। উনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে।



















