সাতক্ষীরায় এএসআই নিয়োগের তৃতীয় দিনের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা।
বাংলাদেশ পুলিশে দক্ষ, যোগ্য ও জনবান্ধব সদস্য অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ‘সেবার ব্রতে চাকরি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় তৃতীয় দিনের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কঠোর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাঠে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। সকাল থেকে উৎসবমুখর কিন্তু শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, তদবির বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার তৃতীয় দিনের পরীক্ষায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে ছিল পুশ-আপ, সিট-আপ, ড্র্যাগিং এবং রোপ ক্লাইমিং। প্রতিটি ইভেন্টে প্রার্থীদের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হয়। পরীক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অভিভাবক, পুলিশ সুপার ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। তিনি পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসবি), ঢাকা মো. রেজাউল করিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওঅ্যান্ডএম), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা সাখের হোসেন সিদ্দিকী। তাঁদের উপস্থিতিতে নিয়োগ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরদার হয়।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. আহসান হাবীব, খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবু হোসেন এবং সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ অফিসার (আরআই) পুলিশ পরিদর্শক মো. নাজমুল হক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) খালিদ মো. আরাফাত, মো. ইমরান খান ও শাওন রেজাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, সততা ও পেশাগত যোগ্যতার ওপর। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রার্থীদের বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নিয়োগ কার্যক্রম ঘিরে প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক অভিভাবক পুলিশ লাইন্সের বাইরে অবস্থান করে তাদের সন্তানদের জন্য শুভকামনা জানান। পরীক্ষার্থীরাও কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের তদবির, সুপারিশ কিংবা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যোগ্য প্রার্থীদের বাংলাদেশ পুলিশে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
‘সেবার ব্রতে চাকরি’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জনসেবায় আত্মনিয়োগে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে সেরা ও যোগ্য প্রার্থীদের বাছাইয়ের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় চলমান এ নিয়োগ কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।



















