Dhaka ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমান ইয়াবা, নগদ টাকা ও অস্ত্রসহ মাদক সম্রাট আরাফাত গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরাকে মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুখ্যাত মাদক সম্রাট ইয়াসিন আরাফাত অবশেষে আইনের জালে আটকা পড়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, লাখ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্রসহ তাকে তার দুই সহযোগী নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টায় গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম সাতক্ষীরা শহরস্থ পলাশপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন আরাফাত পলাশপোলের জজ কোর্ট সংলগ্ন এলাকার আমিনুর রহমানের পুত্র, কামালনগর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রাকিব হোসেন এবং নিউ মার্কেট এলাকার মকবুল হোসেনের পুত্র মুরাদ হোসেন।

অভিযানকালে তার আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় ৪২০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির অবৈধ ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ১৫টি লাঠি এবং একটি মোটরসাইকেল।

আরও পড়ুনঃ  আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলারোয়ায় চলছে প্রভাবশালীদের ভবন নির্মাণ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইয়াসিন আরাফাতের গ্রুপ এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা চালিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

ইয়াসিন আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় মাদক সরবরাহের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিল। তার নেতৃত্বে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ছড়িয়ে দিয়ে সে শুধু কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনই করেনি বরং তরুন প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল স্থানীয়দের।

সেনাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা জব্দকৃত লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর ছক কষেছিল। অর্থাৎ এটি কেবল মাদক ব্যবসা নয়- এটি ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতিও।

আরও পড়ুনঃ  ঝাউডাঙ্গায় পানিতে ডুবে ৫ বছরের শিশুর করুণ মৃত্যু

অভিযান শেষে ইয়াসিন আরাফাত ও তার দুই সহযোগীকে জব্দকৃত আলামতসহ সাতক্ষীরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন এবং সংগঠিত অপরাধ আইনে একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাতক্ষীরাকে মাদক ও সন্ত্রাসের আস্তানায় পরিণত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চলবে এবং এই অপারেশন তারই বাস্তব প্রমাণ।

সাতক্ষীরা জজ কোট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান – আরাফাত জেলাব্যাপী মাদকের ডিলার হিসেবে বিশেষ পরিচিত। আজ সেনাবাহিনী আরাফাতকে ধরেছে বলে ছাড়িয়ে আসতে পারলো না। যদি থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশ তাকে আটক করতো তাহলে সে এতক্ষণে বেরিয়ে আসতো। তার বোন আসমা চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা ইয়াসিনকে কোন কারণে কথা বলতে গেলেই এই আসমা সেইসব সদস্যদের ম্যানেজ করে।

আরও পড়ুনঃ  জেলা পুলিশের মেগা অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে সদর থানা ও জেলখানা লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ইয়াসিন আরাফাত।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার আসামীদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানান, ইয়াসিন আরাফাতের মতো ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ায় সাতক্ষীরার অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা লেগেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে মাদকমুক্ত সাতক্ষীরা গড়া সম্ভব হবে।

খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমান ইয়াবা, নগদ টাকা ও অস্ত্রসহ মাদক সম্রাট আরাফাত গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০২:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরাকে মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুখ্যাত মাদক সম্রাট ইয়াসিন আরাফাত অবশেষে আইনের জালে আটকা পড়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, লাখ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্রসহ তাকে তার দুই সহযোগী নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টায় গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম সাতক্ষীরা শহরস্থ পলাশপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন আরাফাত পলাশপোলের জজ কোর্ট সংলগ্ন এলাকার আমিনুর রহমানের পুত্র, কামালনগর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রাকিব হোসেন এবং নিউ মার্কেট এলাকার মকবুল হোসেনের পুত্র মুরাদ হোসেন।

অভিযানকালে তার আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় ৪২০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির অবৈধ ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ১৫টি লাঠি এবং একটি মোটরসাইকেল।

আরও পড়ুনঃ  অকালেই নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় প্রাণ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ইয়াসিন আরাফাতের গ্রুপ এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা চালিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

ইয়াসিন আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় মাদক সরবরাহের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছিল। তার নেতৃত্বে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ছড়িয়ে দিয়ে সে শুধু কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনই করেনি বরং তরুন প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল স্থানীয়দের।

সেনাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা জব্দকৃত লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর ছক কষেছিল। অর্থাৎ এটি কেবল মাদক ব্যবসা নয়- এটি ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতিও।

আরও পড়ুনঃ  তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল ঝিকরগাছাবাসী, বাড়ছে অসুস্থতা

অভিযান শেষে ইয়াসিন আরাফাত ও তার দুই সহযোগীকে জব্দকৃত আলামতসহ সাতক্ষীরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন এবং সংগঠিত অপরাধ আইনে একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাতক্ষীরাকে মাদক ও সন্ত্রাসের আস্তানায় পরিণত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চলবে এবং এই অপারেশন তারই বাস্তব প্রমাণ।

সাতক্ষীরা জজ কোট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান – আরাফাত জেলাব্যাপী মাদকের ডিলার হিসেবে বিশেষ পরিচিত। আজ সেনাবাহিনী আরাফাতকে ধরেছে বলে ছাড়িয়ে আসতে পারলো না। যদি থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশ তাকে আটক করতো তাহলে সে এতক্ষণে বেরিয়ে আসতো। তার বোন আসমা চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্যরা ইয়াসিনকে কোন কারণে কথা বলতে গেলেই এই আসমা সেইসব সদস্যদের ম্যানেজ করে।

আরও পড়ুনঃ  জেলা পুলিশের মেগা অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে সদর থানা ও জেলখানা লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ইয়াসিন আরাফাত।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার আসামীদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানান, ইয়াসিন আরাফাতের মতো ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ায় সাতক্ষীরার অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা লেগেছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে মাদকমুক্ত সাতক্ষীরা গড়া সম্ভব হবে।