সন্দ্বীপে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ছেনী বাবলু’সহ গ্রেপ্তার ২, জেলা পুলিশের মেগা অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক।
চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে নেমেছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ‘ছেনী বাবলু’ (৩৫) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় চলমান জেলাব্যাপী মেগা অভিযানে এ পর্যন্ত ২২৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি পিস ইয়াবা, ৯২ কেজি গাঁজা এবং ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র।
পুলিশ জানায়, সন্দ্বীপ থানার একটি বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবলু এবং তার সহযোগী মোঃ জুয়েল রানা (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবলু সন্দ্বীপের শফি মেম্বারের ছেলে এবং জুয়েল রানা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সন্দ্বীপের তাহের বাজার এলাকায় এক রোমাঞ্চকর অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়:
৩টি দেশীয় তৈরি এলজি (পাইপগান)
৪টি কার্তুজ
১টি ছেনি ও ১টি চাপাতি
৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
নগদ ১১,২২০/- টাকা
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ছেনী বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের মেগা অভিযানের সামগ্রিক চিত্র
গত ০৭ মে ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে যোগ দেন জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম। যোগদানের পর পরই তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তাঁর নির্দেশনায় জেলার ১৭টি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
এক নজরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানের সাফল্য:
মোট গ্রেপ্তার: ২২৭ জন অপরাধী।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (অস্ত্র সংক্রান্ত ৯টি মামলায় গ্রেপ্তার ১৮ জন)।
মাদক উদ্ধার: ২,৪৫,০৮৩ (২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩) পিস ইয়াবা এবং ৯২ কেজি গাঁজা (মাদক সংক্রান্ত ১৫২টি মামলায় গ্রেপ্তার ১৯৫ জন)।
ডাকাতি প্রতিরোধ: ৫টি ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ১৪ জন ডাকাত গ্রেপ্তারসহ লুন্ঠিত আলামত উদ্ধার।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই বিশেষ চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।























