Dhaka ০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পানিসারা ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে,‘কিছুই জানি না’ দাবি ফরহাদ হোসেনের

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পানিসারা ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে, ‘কিছুই জানি না’ দাবি ফরহাদ হোসেনের।

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে খাল খনন, রাস্তা সংস্কার, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন, নির্মাণসামগ্রী ক্রয় এবং ব্যয়ের হিসাব সচিব নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

 

সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় চাপাতলা গ্রামের দক্ষিণপাড়া দোতলা মসজিদ থেকে শহর আলীর বাড়ি হয়ে হানিফার বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সলিংকরণ প্রকল্পে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদের ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় চাপাতলার বাবুর দোকান থেকে জাবেরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ফ্ল্যাট সলিংকরণে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এছাড়া কাবিখা-গম কর্মসূচির আওতায় শহিদুলের বাড়ি থেকে ইমামুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সলিংকরণ, টিআর কর্মসূচির আওতায় পানিসারা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মান্নানের জমি থেকে আফিলের জমি পর্যন্ত শ্বেতগঙ্গা খাল উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলাপসিবল গেট ও প্রধান ফটক নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে গণসংযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ফরিদ উদ্দিন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অধিকাংশ প্রকল্পে চাহিদা অনুযায়ী কাজ হয়নি। কোথাও কোথাও প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ কাজ করেই সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। কাজ চলাকালে সচিবকে মাত্র একদিন এলাকায় দেখা গেলেও পরে আর কোনো তদারকি করতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পগুলোর ইট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ক্রয় থেকে শুরু করে ব্যয়ের হিসাব পর্যন্ত সবকিছু সচিব ফরহাদ হোসেন নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তারা কেবল প্রকল্পের কাজ তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চাইলেও এখন পর্যন্ত তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ

 

একাধিক প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোছা. জবেদা বেগম বলেন, প্রকল্পের টাকা আমার ব্যাংক হিসাবে এসেছিল। কিন্তু টাকা উত্তোলন করেছেন সচিব। আমি নিজে কাজ করতে চাইলেও তিনি করতে দেননি। তিনি নিজেই ইট-বালি কিনে দিয়েছেন। আমার কাজের জন্য ১৭ গাড়ি ইট ও ১৯ গাড়ি বালির স্লিপ ছিল। মোট ১ হাজার ৫৩ ফুট কাজ হয়েছে। কাজ শেষে হিসাব চাইলে তিনি কোনো হিসাব দেননি। শুধু শ্রমিকদের নাস্তা ও লেবার খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়েছেন।

 

শ্বেতগঙ্গা খাল উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. আলীম গাজী বলেন, সচিব আমাকে বলেন এটি উপজেলার অতিরিক্ত একটি প্রকল্প। এলাকার স্বার্থে কাজটি করে দিতে হবে। তাঁর কথা বিশ্বাস করে আমি খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরির জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান। বাকি টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

আরও পড়ুনঃ  জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, চাপাতলার কাজ আনোয়ার মেম্বার, সেলিম মেম্বার ও কবির মেম্বার করেছেন। প্রকল্পের রাস্তার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু একদিন দেখতে গিয়েছিলাম। কত গাড়ি ইট, বালি এবং অন্যান্য খরচ হয়েছে, তা ওই তিন মেম্বারই বলতে পারবেন।

 

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পগুলোর অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সচিবের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পানিসারা ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে,‘কিছুই জানি না’ দাবি ফরহাদ হোসেনের

আপডেটের সময়: ০৭:০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ পানিসারা ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে, ‘কিছুই জানি না’ দাবি ফরহাদ হোসেনের।

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে খাল খনন, রাস্তা সংস্কার, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন, নির্মাণসামগ্রী ক্রয় এবং ব্যয়ের হিসাব সচিব নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

 

সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় চাপাতলা গ্রামের দক্ষিণপাড়া দোতলা মসজিদ থেকে শহর আলীর বাড়ি হয়ে হানিফার বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সলিংকরণ প্রকল্পে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদের ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় চাপাতলার বাবুর দোকান থেকে জাবেরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ফ্ল্যাট সলিংকরণে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এছাড়া কাবিখা-গম কর্মসূচির আওতায় শহিদুলের বাড়ি থেকে ইমামুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সলিংকরণ, টিআর কর্মসূচির আওতায় পানিসারা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মান্নানের জমি থেকে আফিলের জমি পর্যন্ত শ্বেতগঙ্গা খাল উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলাপসিবল গেট ও প্রধান ফটক নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অধিকাংশ প্রকল্পে চাহিদা অনুযায়ী কাজ হয়নি। কোথাও কোথাও প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ কাজ করেই সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। কাজ চলাকালে সচিবকে মাত্র একদিন এলাকায় দেখা গেলেও পরে আর কোনো তদারকি করতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পগুলোর ইট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ক্রয় থেকে শুরু করে ব্যয়ের হিসাব পর্যন্ত সবকিছু সচিব ফরহাদ হোসেন নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তারা কেবল প্রকল্পের কাজ তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চাইলেও এখন পর্যন্ত তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে জলদস্যু দমন, মাদক ও মানব পাচার রোধে উপকূলে কঠোর অবস্থানে কোস্ট গার্ড

 

একাধিক প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোছা. জবেদা বেগম বলেন, প্রকল্পের টাকা আমার ব্যাংক হিসাবে এসেছিল। কিন্তু টাকা উত্তোলন করেছেন সচিব। আমি নিজে কাজ করতে চাইলেও তিনি করতে দেননি। তিনি নিজেই ইট-বালি কিনে দিয়েছেন। আমার কাজের জন্য ১৭ গাড়ি ইট ও ১৯ গাড়ি বালির স্লিপ ছিল। মোট ১ হাজার ৫৩ ফুট কাজ হয়েছে। কাজ শেষে হিসাব চাইলে তিনি কোনো হিসাব দেননি। শুধু শ্রমিকদের নাস্তা ও লেবার খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়েছেন।

 

শ্বেতগঙ্গা খাল উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. আলীম গাজী বলেন, সচিব আমাকে বলেন এটি উপজেলার অতিরিক্ত একটি প্রকল্প। এলাকার স্বার্থে কাজটি করে দিতে হবে। তাঁর কথা বিশ্বাস করে আমি খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরির জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান। বাকি টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে কোল্ড স্টোরেজে আলুর ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

 

সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, চাপাতলার কাজ আনোয়ার মেম্বার, সেলিম মেম্বার ও কবির মেম্বার করেছেন। প্রকল্পের রাস্তার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু একদিন দেখতে গিয়েছিলাম। কত গাড়ি ইট, বালি এবং অন্যান্য খরচ হয়েছে, তা ওই তিন মেম্বারই বলতে পারবেন।

 

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পগুলোর অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সচিবের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।