Dhaka ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১ যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

 

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউস-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, শেড থেকে পণ্য আত্মসাৎ এবং ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা-ভেটখালী মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুল্ক ফাঁকি, পণ্য আত্মসাৎ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে নয়টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন রেকর্ড, বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাৎ, ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ এবং কেমিক্যাল জোন থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এসব ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে মাদকের থাবা

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির নেতারা বলছেন, শেডের ভেতরে পণ্য আত্মসাৎ বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, “ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা-ভেটখালী মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

ফাইজুর রহমান বলেন, “সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আহরণ কেন্দ্র। তাই রাজস্ব ঘাটতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় পোস্ট

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

আপডেটের সময়: ১০:৪৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

 

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউস-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, শেড থেকে পণ্য আত্মসাৎ এবং ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা-ভেটখালী মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুল্ক ফাঁকি, পণ্য আত্মসাৎ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে নয়টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন রেকর্ড, বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাৎ, ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ এবং কেমিক্যাল জোন থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এসব ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে মাদকের থাবা

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির নেতারা বলছেন, শেডের ভেতরে পণ্য আত্মসাৎ বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এ বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, “ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে মাদকের থাবা

ফাইজুর রহমান বলেন, “সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আহরণ কেন্দ্র। তাই রাজস্ব ঘাটতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।