কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি গাছ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে।
১৮-১-২০২৬ (রবিবার) দুপুরে সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল জব্বারের বাড়িতে গিয়ে লোপাট হয়ে যাওয়া গাছের গুঁড়ি উদ্ধার হওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মোঃ নাজমুল হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সাবেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী আব্দুল জব্বার যোগসাজশ করে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মূল্যবান সরকারি গাছ কেটে আত্মসাৎ করে আসছিলেন। গাছ কাটার সময় তারা নিজেদের ‘ইউএনও মহোদয়ের লোক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন, ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সংবাদদাতা গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল জব্বারের বাড়িতে গিয়ে খবর সংগ্রের সময় সেখানে সরকারি গাছের বেশ কিছু বড় গুঁড়িসহ বিপুল কাঠ
দেখতে পায় । স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মচারীরা যোগসাজশ করে সরকারি এসব গাছ কেটে আব্দুল জব্বারের বাড়িতে স্তূপ করে রাখতেন এবং পরবর্তীতে সুবিধামতো সময়ে তা বিক্রি করে দিতেন। এলাকাবাসীর ধারণা তারা এদের সাথে বড় কোন অপরাধী জরিত আছে।
চাকিরপশার পাঠকপাড়ার বাসিন্দা আপেল আহমেদ বলেন গত সপ্তাহে মাইনর স্কুল সংলগ্ন তেলের পাম্পের সামনে দুটি সরকারি গাছ কাটার চেষ্টা করছিলেন আব্দুল জব্বার। তবে এ বিষয়ে আব্দুল জব্বার তার বক্তব্যে সমস্ত দায় চাপিয়ে দেন কেয়ারটেকার নাজমুল হোসেনের উপর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার নাজমুল হোসেব বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে গাছ কেটে আনা হয়।তবে সরকারি গাছের গুড়ি আব্দুল জব্বারের বাড়িতে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, খড়ি হিসেবে ঐ গুড়িটি তিনি আব্দুল জব্বারকে দান করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেটটি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করছে। প্রতিবারই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে পার পেয়ে যেত। প্রশাসনের অতি নিকটবর্তী হওয়ায় তাদের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করেনি।
এই বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃআল ইমরানের সঙ্গে কথা বললে,তিনি গাছ কাটার আদেশের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।





















