Dhaka ০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ঋণের দায়ে দিশেহারা অসুস্থ শিক্ষক; দুই বছরেও মেলেনি অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা

নাকালিয়া সাড়াসিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয় পাবনার বেড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য একজন শিক্ষক ছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম, যিনি জীবন যুদ্ধের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ সম্বল ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে প্রাপ্য অর্থ আজও হাতে পাননি। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক আনোয়ারুল ইসলাম, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। সন্তানরা সবাই শিক্ষিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ভালো কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়ায় সংসারের ভার এখনো বহন করতে হয় বয় বৃদ্ধ এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে।

আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবসর গ্রহণের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০২৩ সালের মে মাসে তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে করতে হয় জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি। এরপর চোখের সমস্যা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে চোখের অপারেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এসব চিকিৎসায় তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

সরেজমিনে জানা যায়, চিকিৎসার বিশাল এই ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ হয়েছে, এখন কেবল ঋণের বোঝা মাথার ওপর। কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাপ্য টাকা পেলে অন্তত এই ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম। জীবনের শেষবেলায় এসে চিকিৎসার টাকা জোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি তার শারীরিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দ্রুত অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানান। তবে ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো কোনো ফল পাননি তিনি। এমন কি কবে এই অর্থ পাবেন তারও কোন হদিস নেই।
বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে প্রায় শয্যাশায়ী।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

ভুক্তভোগী এই শিক্ষকের সহকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষক সারাজীবন দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার টাকার জন্য এমন কষ্ট পাবেন তা মেনে নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় আনোয়ারুল ইসলামের কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

বেড়া উপজেলার একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ইংরেজি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম কাতর কণ্ঠে বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার পাওনা টাকাটা পেয়ে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে শান্তিতে মরতে চাই।”

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

ঋণের দায়ে দিশেহারা অসুস্থ শিক্ষক; দুই বছরেও মেলেনি অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা

আপডেটের সময়: ১২:২৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নাকালিয়া সাড়াসিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয় পাবনার বেড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য একজন শিক্ষক ছিলেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম, যিনি জীবন যুদ্ধের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ সম্বল ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে প্রাপ্য অর্থ আজও হাতে পাননি। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক আনোয়ারুল ইসলাম, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। সন্তানরা সবাই শিক্ষিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ভালো কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়ায় সংসারের ভার এখনো বহন করতে হয় বয় বৃদ্ধ এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে।

আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবসর গ্রহণের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০২৩ সালের মে মাসে তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে করতে হয় জটিল ওপেন হার্ট সার্জারি। এরপর চোখের সমস্যা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে চোখের অপারেশন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এসব চিকিৎসায় তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

সরেজমিনে জানা যায়, চিকিৎসার বিশাল এই ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ হয়েছে, এখন কেবল ঋণের বোঝা মাথার ওপর। কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাপ্য টাকা পেলে অন্তত এই ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম। জীবনের শেষবেলায় এসে চিকিৎসার টাকা জোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি তার শারীরিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দ্রুত অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানান। তবে ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো কোনো ফল পাননি তিনি। এমন কি কবে এই অর্থ পাবেন তারও কোন হদিস নেই।
বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে প্রায় শয্যাশায়ী।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি

ভুক্তভোগী এই শিক্ষকের সহকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষক সারাজীবন দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার টাকার জন্য এমন কষ্ট পাবেন তা মেনে নেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় আনোয়ারুল ইসলামের কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

বেড়া উপজেলার একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ইংরেজি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম কাতর কণ্ঠে বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার পাওনা টাকাটা পেয়ে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে শান্তিতে মরতে চাই।”