দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বরযাত্রীর মাইক্রোবাসকে সাইড দেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মোস্তফা কামাল (৪০) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশু, শিক্ষক ও প্রফেসরসহ মোট ১৭ জন বরযাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কাহারোল উপজেলার দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোস্তফা কামাল দশমাইল গড়নুরপুর এলাকার সাইরুদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ছিলেন।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা রাত ১০টা পর্যন্ত দশমাইল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার পথে একটি বরযাত্রীর মাইক্রোবাস একই দিকে চলা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে হর্ন দিয়ে দ্রুতগতিতে পাশ কাটিয়ে যায়। এতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও অটোরিকশা চালক সফিকুল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে মোস্তফা কামালসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দশমাইল শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে বরযাত্রীর মাইক্রোবাসসহ গাড়িবহর আটক করেন। এ সময় বরযাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে মোস্তফা কামাল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু সহ ১৭ জন বরযাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কাহারোল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর শ্যামল দাস জানান, আটককৃতদের মধ্যে শিশু, শিক্ষক ও প্রফেসর রয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।























