কক্সবাজারে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ব্র্যাকের উদ্যোগে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
‘নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান কমবে’
নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১১ টার সময় কক্সবাজার সদর উপজেলা মডেল মসজিদের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, “সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের কারণে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি। মানবতাবিরোধী এই অপরাধ রোধে খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
ইসলামী ফাউন্ডেশন কক্সবাজার সদরের সুপারভাইজার সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন আগামী শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার প্রতিটি মসজিদে জুমআর খুতবায় মানব পাচারের কুফল ও বৈধ অভিবাসনের উপায় নিয়ে আলোচনার করার বিশেষ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন । সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান কার্যালয়ের টেকনিকাল এক্সপার্ট তৌহিদুর রশিদ। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার অঞ্চলের সেন্টার ম্যানেজার মো. আজীমুল হকের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইমাম সমিতির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মসজিদের খতিব মহোদয়গণ, মোয়াজ্জিন, মোহতামিম, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ব্র্যাকের কর্মীবৃন্দ।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা এবং সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও- ব্র্যাক, ১৯৭২ সালের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দেশে ও দেশের বাইরে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কর্মসূচি হল মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
ব্র্যাকের এই প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাসমূহে বিদেশগামী নারী ও পুরুষের মাঝে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার রুখতে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসি ও নানাবিধ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।























